যে ৫ কারনে হিলারি জিতবেন

Nov 08, 2016 11:03 am

 মাইকেল টমোস্কি

হিলারি ক্লিনটন শুধু ট্রাম্পের বিরুদ্ধেই লড়ছেন না, তিনি ক্রেমলিন এবং এফবিআইয়ের এক দুর্বৃত্ত পরিচালকের বিরুদ্ধেও লড়ছেন। একই সাথে লড়ছেন অনেক রাজ্যের ডানপন্থী সংসদ, বিভিন্ন প্রদেশের গভর্নর ও কৃষ্ণাঙ্গবিরোধী প্রচারকদের বিরুদ্ধেও। কালোদের ভোটাধিকার বঞ্চিত করা এবং তাদের ভোট প্রয়োগ ঠেকাতে তারা আইনগতভাবে যা যা করার তার সব কিছুই করেছে। কোনো সন্দেহ নেই, নির্বাচনের রাতে আমরা জানতে পারব, তারা কালোদের ভোট দেয়া ঠেকাতে বেআইনি কাজও করেছে।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এত কিছু সত্ত্বেও হিলারি এগিয়ে রয়েছেন এখনো। এগিয়ে থাকার অনেক কারণের মধ্যে পাঁচটি এ রকম :

 

১. অগ্রিম ভোট : বিভিন্ন রাজ্যে যারা অগ্রিম ভোট দিতে গেছেন, তাদের মধ্যে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাট ভোটারদের সংখ্যা অনেক বেশি। বেশ কয়েকটি রাজ্যে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাট দলের নিবন্ধিত অগ্রিম ভোটাররা বেশি উপস্থিত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে লক্ষণীয় হলো নেভাদা রাজ্য। সেখানে অগ্রিম ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে হিলারি এগিয়ে রয়েছেন বিপুলভাবে। যেমন গত ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট দলের ৪৩ শতাংশ নিবন্ধিত অগ্রিম ভোটার ভোট দিয়েছেন। আর রিপাবলিকান দলের ৩৭ শতাংশ নিবন্ধিত অগ্রিম ভোটার ভোট দিয়েছেন। ফাইভ থার্টি এইট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ রাজ্যে ট্রাম্পকে বিজয়ী হতে হলে ভোটের দিন বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করতে হবে হিলারিকে।
নর্থ ক্যারোলিনায়ও হিলারি এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে ইতোমধ্যে ১৮ লাখ ভোটার অগ্রিম ভোট দিয়েছেন। এ রাজ্যে ৪৪ লাখ ভোটার ভোট দেবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত যারা ভোট দিয়েছেন, তাতে হিলারি শতকরা ১১ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। এখানেও ট্রাম্পকে জিততে হলে ভোটের দিন প্রাপ্ত ভোটে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে হবে তাকে।
ফ্লোরিডার খবর তেমন ভালো ছিল না হিলারির জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অগ্রিম প্রদত্ত ভোটে সেখানেও হিলারি শতকরা ৮ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্পের বিপরীতে।

অগ্রিম ভোটের একটি সমস্যা : অগ্রিম যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের উপস্থিতি কম লক্ষ করা গেছে। এটা সম্ভবত তাদের ভোটাধিকার হরণসংক্রান্ত কারণে হয়েছে, যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে ট্রাম্পবিরোধী কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে যে কথা ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়টি হিলারি এবং তার প্রতিনিধিদের নিশ্চিত হতে হবে।

২. ইলেক্টোরাল কলেজ হিসাব : ইলেক্টোরাল ভোটের হিসাব ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের জন্য এখন পর্যন্ত খুবই ভীতিকর। উদ্ভট যদি কিছু না ঘটে তাহলে কয়েকটি রাজ্যে ২৪৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট রয়েছে, যা অন্তত হিলারির হাতছাড়া হবে না। আমি এর মধ্যে মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়াকে রাখছি। কিন্তু ভার্জিনিয়াকে রাখছি না। ভার্জিনিয়া ট্রাম্পের প্রতি নমনীয়। হিলারির নিশ্চিত ২৪৬টি ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের বিপরীতে ট্রাম্পের রয়েছে মাত্র ১৮০টি। অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু যে হতে পারে না তা নয়। উইসকনসিনে ভোটার প্রতিরোধের যে খবর বের হয়েছে, তা উদ্বেগজনক লোকজনের কাছে। আর মিশিগানে কৃষ্ণাঙ্গরা যাতে ভোট দিতে আসতে পারেন, সেটি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে হিলারি-শিবিরকে। শুধু মনে রাখুন ফ্লোরিডা, ওহিয়ো, নর্থ ক্যারোলিনা, কলোরাডো, অ্যারিজোনা, আইওয়া রাজ্যে হিলারি জয় লাভ না-ও করতে পারেন। তার পরও তিনি তার প্রয়োজনীয় ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পাবেন।

 

৩. লেটিনো হিসপ্যানিক ভোটার উপস্থিতি : যেসব রাজ্যে অগ্রিম ভোট চলছে, সেখানে ল্যাটিনো ও হিসপ্যানিক ভোটারদের জয়জয়কার উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। ভোটের দিন পর্যন্ত যদি তাদের এ উপস্থিতি বহাল থাকে তবে ফ্লোরিডা, অ্যারিজোনা, কলোরাডো, নেভাদা ও নিউ ম্যাক্সিকো রাজ্যে হিলারির জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে (মেক্সিকো, কিউবা, পুয়ের্তোরিকো, আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকাসহ ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অধিবাসীরা ল্যাটিনো নামে পরিচিত। অপর দিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্পেন উপনিবেশ সূত্রে আমেরিকান নাগরিকেরা হিসপ্যানিক নামে পরিচিত)। ফ্লোরিডার কথা পড়ার সময় আপনি মনে মনে কিউবার কথা ভাববেন। ২০১২ সালের নির্বাচনের সময় ওবামা এবং রমনি কিউবান ভোটারদের ৫০-৫০ ভাগ করতে পেরেছিলেন। ফ্লোরিডায় ল্যাটিনো ভোটারদের অর্ধেকই কিউবান। বাকি অর্ধেক পুয়ের্তোরিকান। সুতরাং হিলারি ল্যাটিনো-কিউবান ভোটারদের অর্ধেক পাবেন। আর পুয়ের্তোরিকানদেরও ৮৫ শতাংশ ভোট পাবেন তিনি। সুতরাং ফ্লোরিডার ল্যাটিনো ভোটারদের তিন ভাগের দুই ভাগই পাবেন হিলারি।

 

৪. কৃষ্ণাঙ্গদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে : অনেক রাজ্যে কালোদের ভোটদানকে যতটা সম্ভব কঠিন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কালোদের ভোটদানের ক্ষেত্রে বাধা দেয়া হবে না এ রকম প্রমাণ খুব কমই আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনগুলোতে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বেড়েছে।
ব্যতিক্রম কিছু না হলে ট্রাম্প কৃষ্ণাঙ্গদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে শোচনীয় অবস্থানে রয়েছেন। আগেরবার রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী রমনি তবুও ৫ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গের ভোট পেয়েছিলেন।

সতর্কবাণী : ভোটের দিন কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত এলাকায় কম ভোটিং মেশিন রাখা হতে পারে। যেসব রাজ্যে অগ্রিম ভোট হয়েছে, সেসব রাজ্যে যেমন কম কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার উপস্থিত হয়েছেন, তেমনি ভোটের দিনও তাদের উপস্থিতি ঠেকিয়ে দেয়া হতে পারে। নির্বাচনের দিন যদি কৃষ্ণাঙ্গদের ব্যাপক উপস্থিতি ঘটে, তাহলে তাদের দমন করার কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কৃষ্ণাঙ্গরা যদি অধিক উপস্থিত হয় এবং সেখানে কম ভোটিং মেশিন স্থাপন করা হয়, তাহলে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হবে এবং ভোটের সময় পার হয়ে গেলেও তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতে পারে। তিন-চার ঘণ্টা সময় বাড়িয়েও তাদের ভোটদান সম্পন্ন করা না-ও যেতে পারে। ট্রাম্প যেসব উক্তি করেছেন, তাতে এসব এলাকায় সংঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। হিলারি-শিবিরকে এ বিষয়ে পুরোপুরি সচেতন থাকতে হবে।

৫.গ্রাউন্ড গেম : হিলারি নির্বাচনী প্রচারণার ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন রবি মুককে। ভোটার আকর্ষণে তিনি যে বিশাল ও আধুনিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন, তা এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যে অন্যতম। তাদের গ্রাইন্ড গেমের বিপরীতে ট্রাম্পের অবস্থা একেবারেই নাজুক। শেষ মুহূর্তে এফবিআই পরিচালক জেমস কমির চালে কিছু ভাসমান ভোট হিলারির কাছ থেকে ছুটে যেতে পারে, তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
সার্বিক পরিস্থিতিতে হিলারি-শিবিরের ভালো অনুভূতি সৃষ্টি হওয়ার কারণ রয়েছে এখন পর্যন্ত। তার পরও একটি শঙ্কা আছে। দেশ হিসেবে আমরা একটি অন্ধকার স্থানে আছি। আর অন্ধকারে অদ্ভুত অনেক ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আমাদের সামনে সে ধরনের কোনো বিপর্যয় বয়ে আনতে হলে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে হবে।

লেখক : মার্কিন সাংবাদিক, কলামিস্ট ও লেখক। তিনি নিউজউইক ও ডেইলি বিস্ট-এর বিশেষ প্রতিনিধি
ভাষান্তর : মেহেদী হাসান


 

[X]