কেন দরকার জাতীয় ঐক্য

Jul 02, 2016 05:05 pm

 

বাংলাদেশ এখন এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। রাজধানীর গুলশানে একটি রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীদের হামলায় দেশী-বিদেশী নাগরিক হতাহত ও জিম্মি হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পরিচিতি বদলে গেছে। এই নারকীয় হামলায় ২০ জন বিদেশি নাগরিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তাসহ সাধারন মানুষ নিহত হয়েছেন। সন্ত্রাসীরা কার্যত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিদেশী নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য নিহত হয়েছেন, তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অকুতোভয় সৈনিক হিসাবে জীবনদান করেছেন। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী মাত্র ১৭ মিনিটে এই পনবন্দী ঘটনার অবসান ঘটাতে পেরেছে।


সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন মহল শুরু থেকে যে অদূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে আসছে, এর ফলে প্রকৃত সন্ত্রাসীরা আড়ালের বাইরে শুধু চলে যাচ্ছে না, দিন দিন ভয়ঙ্কররূপে আবির্ভূত হচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে সন্ত্রাসের চেহারা এখন একই রকম। প্যারিস, ইস্তাম্বুল কিংবা ঢাকা, সব জায়গায় সন্ত্রাসের পরিচয় সন্ত্রাসই। গুলশানে রেস্তোরাঁয় বিদেশী নাগরিকদের পণবন্দী করে হামলার ধরন থেকে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মারাত্মক পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাথে সাথে হামলার দায় স্বীকার ও টুইটারে ছবি প্রকাশ করা তাদের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি প্রমাণ করেছে।


বাংলাদেশে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা দীর্ঘ দিন থেকেই পশ্চিমা দেশগুলো করে আসছিল। দুঃখজনকভাবে, সরকার এসব হুঁশিয়ারি গুরুত্বের সাথে নেয়নি। বরং বারবার অস্বীকার করছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর এ দেশে অস্তিত্বকে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে দমন পীড়ন, এমনকি বহু লোককে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। উগ্রপন্থীদের অব্যাহত সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে একটি রাজনৈতিক খেলায় পরিণত করা হয়েছিল। পুলিশের আইজির বক্তব্য জাতিকে আরো হতাশ করেছে। তিনি বলেছেন এই সন্ত্রাসীরা ছিলো তালিকাভুক্ত। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা ক’টনৈতিক এলাকায় এসে হত্যাযজ্ঞ চালালো পুলিশ কিছুই করতে পারলো না। তাদের অনুসরন ও গোয়েন্দা কার্যক্রমে বড় ধরনের দূর্বলতা প্রমান করে। অথচ পুলিশ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বিচার বর্হিভুত হত্যায় কত দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে।


আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কার্যক্রমকে জাতীয় রাজনীতিতে সংকীর্ণ স্বার্থ হাসিলের কাজে ব্যবহার করার ফলে সন্ত্রাসীরা শক্তি সঞ্চয় করেছে। শুক্রবার রাতে গুলশানের বর্বরোচিত হামলা এর প্রমাণ। বাংলাদেশে যেসব ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এ ধরনের ঘৃণ্য হামলার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে শুধু নিন্দা প্রকাশ যথেষ্ট নয়। সবাইকে মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাস দমন করতে না পারলে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে। সমাজ থেকে সন্ত্রাসের অস্তিত্ব দূর করতে হলে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি এর বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে দলমত নির্বিশেষে। সরকারকেই এই জাতীয় ঐক্যের ডাক দিতে হবে। এই হামলা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। আর এই রাষ্ট্র একক কোনো রাজনৈতিক নেতানেত্রী বা দলের নয়। রাষ্ট্রকে রক্ষার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সময় নষ্ট না করে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সব দল এক কাতারে শামিল হবে এবং সন্ত্রাস নিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের খেলা বন্ধ হবে।


 

[X]